08th Aug 2008

যুক্তরাষ্ট্রে অহরহ মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে

-নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন
 
প্রতি বছর সমগ্র বিশ্বের মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর প্রতিবেদন প্রকাশকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্রে কিভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে তার একটি বিবরণ নিউইয়র্ক টাইমস প্রকাশ করেছে। সুখের জন্য প্রিয় মাতৃভূমি ত্যাগ করে যুক্তরাষ্ট্রে আগতদের সাথে কী নির্দয় আচরণ করা হচ্ছে লাগাতারভাবে, সে ব্যাপারে দীর্ঘ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি ৩ আগস্ট প্রকাশিত হয়েছে ‘ইমিগ্রেশন ফেসিং ডিপোর্টেশন বাই ইউএস হসপিটালস’ শিরোনামে। এ প্রতিবেদনে ফেডারেল প্রশাসনের দুর্বলতার সুযোগে কোনো কোনো হাসপাতাল মারাত্মকভাবে অসুস্থ ইমিগ্র্যান্টদের জোরপূর্বক স্বদেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে যেখানে চিকিৎসার নূøনতম সুযোগ নেই বা চিকিৎসার মতো সঙ্গতিও নেই। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, এ দেশে বসবাসরত যেকোনো মানব সন্তানের চিকিৎসা পাওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। জরুরি চিকিৎসায় কোনো ধরনের কার্পণ্য করা যাবে না ইমিগ্রেশনের স্ট্যাটাসের অজুহাতে। ইমিগ্রেশনের কর্মকর্তারা দেখেও না দেখার ভান করে রয়েছেন এহেন অপকর্মে লিপ্তদের ব্যাপারে­ এ প্রসঙ্গও স্থান পেয়েছে ওই প্রতিবেদনে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরিজোনার ফিনিক্সে অবস্থিত সেন্ট যোসেফ হাসপাতাল থেকে বছরে গড়ে ৯৬ জন অবৈধ ইমিগ্র্যান্টকে বহিষ্কার করা হচ্ছে। ফ্লোরিডার ফোর্টলডারডেলে অবস্থিত ব্রাউয়ার্ড জেনারেল মেডিক্যাল সেন্টার থেকে বার্ষিক গড়ে ছয় থেকে আটজন রোগীকে স্বদেশে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে ইমিগ্রেশনের স্ট্যাটাসের কারণে। শিকাগো হাসপাতাল থেকে গত বছর ১০ জনকে হন্ডুরাসে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। গত বছর ৩৬০ জন মেক্সিকানকে দেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে তাদের দেশের কন্স্যুলেটের মধ্যস্থতায়। তারা কেউই স্বদেশে সুচিকিৎসা পাচ্ছেন না বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ প্রতিবেদনের পর ইমিগ্র্যান্টদের অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে কর্মরত সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং মানবাধিকার নিয়ে কর্মরতরা তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তারা বলেছেন, অন্য দেশের মানবাধিকার নিয়ে যারা নানা সমালোচনা করছেন, খবরদারি চালাচ্ছেন, তাদের দেশের এ পরিস্থিতির দায় কার ওপর চাপাবেন? ক্যাপিটল হিলের লোকজন এখন কী বলবেন?

-এনা নিউইয়র্ক

আপনার মন্তব্য দিন

You must be logged in to post a comment.