10th Aug 2008

ইসরাইলের পরমাণু বোমা প্রসংগে আল বারাদির বক্তব্য

ইসরাইলের পরমাণু বোমার ভান্ডার এবং আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আই.এ.ই.একে ইসরাইলের পরমাণু বোমার স্থাপনা পরিদর্শন করতে না দেয়ার বিষয়টি মধ্যপ্রাচ্যের জন্য একটি বড় অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে । আই.এ.ই.এর প্রধান মোহাম্মদ আল বারাদির সাম্প্রতিক একটি বক্তব্যে এই বিষয়টি উঠে এসেছে । তিনি পরিস্কার ভাষায় বলেছেন, মিসর এবং জর্দান ইসরাইলের সাথে যে আপোষ চুক্তি করেছে তা ছিল একটি ভুল । আল বারাদির মতে, এই জাতীয় শান্তি চুক্তিতে মধ্যপ্রাচ্যকে পরমাণু বোমা মুক্ত রাখার বিষয়টি অর্ন্তভুক্ত করা অত্যাবশ্যকীয় ছিলো । অথচ চুক্তিতে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি মোটেও ঠাঁই করে নিতে পারেনি। আই.এ.ই.এর পরিদর্শকদের ইসরাইলের পরমাণু স্থাপনা পরিদর্শনে অস্বীকৃতির ভিত্তিতে এই সংস্থার প্রধান নিশ্চয়তার সাথেই বলেছেন যে, তেল আবিবের পরমাণু কর্মসূচি রয়েছে । আর পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটি স্বাক্ষরে ইসরাইলের অস্বীকৃতি আল বারাদির এই মতকে সত্যতা প্রদান করছে । ইসরাইল পরমাণু বোমা তৈরির কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে । অব্যাহত পরমাণু বোমা তৈরি এবং অস্ত্র ভান্ডারে দুই শতাধিক পরমাণু ওয়ারহেড ইসরাইলকে মধ্যপ্রাচ্যে এক বড় অশান্তির কারণ করে তুলেছে । ঠিক এ পরিস্থিতিতে পাশ্চাত্যের কোনো কোনো দেশ বিশেষ করে জার্মানি ইসরাইলকে পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র বহন এবং নিক্ষেপে সক্ষম কিছু ডুবোজাহাজ প্রদান করেছে । এ থেকে ইউরোপীয় কোনো কোনো দেশ সহ যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইসরাইলের দহরম-মহরমের ব্যাপারটি ফুটে উঠেছে । মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলকে রক্ষা ও শক্তিশালী করা এবং আরব ও মুসলিম দেশগুলোর চেয়ে ইসরাইলকে শ্রেষ্ঠ করে তোলাই এই সর্ম্পকের চুড়ান্ত লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে । ইসরাইলের পরমাণু বোমা তৈরির ক্ষমতা অর্জনের ব্যাপারটি পাশ্চাত্যের এ সব দেশের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা ছাড়া সম্ভব হবে না। মিসর ও জর্দান ইসরাইলের সাথে শান্তি চুক্তি করে ভুল করেছে বলে জনাব আল বারাদি যে মন্তব্য করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এ পরিস্থিতির আলোকে তা বিবেচনা করছেন। মিসর ও জর্দানের এমন ভুলের কারণে, সুযোগ সন্ধানী ইসরাইলের আরো সুবিধা হয়ে গেছে। এ বিষয় থেকে প্রতীয়মান হচ্ছে, ইসরাইলের ব্যাপারে আগের চেয়েও আরো সর্তক হওয়ার প্রয়োজন হয়ে উঠেছে।

আপনার মন্তব্য দিন

You must be logged in to post a comment.