10th Aug 2008

বাংলাদেশের এনজিও-গুলোর বিরুদ্ধে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে অনুষ্ঠিত স্থানীয় নির্বাচনে ৩১ টি এন জি ও -নির্বাচনী পর্যবেক্ষণে কাজ করেছে । ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের অধীনে এই সব এন জি ও বিভিন্ন দাতা সংস্থার কাছ থেকে টাকা নিয়ে স্থানীয় নির্বাচনে কমিশনের পক্ষে কাজ করছে বলে অভিযোগ উঠছে । এসব এন জি ও নির্বাচন কমিশনের ভোটার নিবন্ধন, ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের সাথে চুক্তিবদ্ধ ছিল । তারাই আবার পর্যবেক্ষণের কাজ করেছে । একই সাথে দু’টি দায়িত্ব পালনে তাদের পর্যবেক্ষণের বিষয় নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে এবং বলা হচ্ছে তারা নির্বাচন কমিশনের পক্ষেই কাজ করেছে । নির্বাচনের পর বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ সংস্থা তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে । এসব এন জি ও নির্বাচন কমিশনের ঠিকাদারি এবং তাদের কাজের মূল্যায়ন করলে সেটি নিরপেক্ষ হয়না বলে দাবি করেছে ৩৩ টি সংগঠন নিয়ে গঠিত ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের একটি সংগঠন জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষন পরিষদ বা জানিপপ। জানিপপের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ বলেন, নির্বাচন কমিশনের সাথে যখন ইলেকশান ওয়ার্কিং গ্রুপের সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়েছিল তখন জানিপপ সেই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি । কারণ এক সাথে জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি আর নির্বাচন পর্যবেক্ষণের কাজ করলে কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিতে পারে এই জন্য জানিপপ পর্যবেক্ষণের কাজটি করেছে । তিনি বলেন, জানিপপ সঠিক ভাবেই তাদের দায়িত্ব পালন করেছে । নির্বাচন কমিশনের পক্ষে তারা কোন কাজ করেনি । অধ্যাপক কলিমুল্লাহ বলেন, নীতি ও আদর্শগত কারণেই কমিশনের সাথে তারা চুক্তি করেনি । তাহলে অন্য এন জি ও যারা কমিশনের সাথে চুক্তি করেছিল তারা কী কমিশনের পক্ষে কাজ করেছে বলে আপনি মনে করেন ? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি তাদের নিজস্ব ব্যাপার । নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী আরেকটি সংস্থা ব্রতী গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়েছে বলে মত দিয়েছে । এই সংস্থাটি নির্বাচন কমিশনের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল । এ বিষয়ে ব্রতীর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন মুরশিদ বলেন ,একটি অবাধ ও সুষ্টু নির্বাচনের স্বার্থে কমিশনকে সহায়তা করার জন্যই আমরা ভোটারদের উদ্বুদ্ধকরণে কাজ করেছি । তিনি বলেন , নির্বাচন কমিশনের পক্ষে কাজ করব কেনো ? তিনি বলেন, আমরা কারো পক্ষে কাজ করিনি । বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ব্রতী পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করেছে । সেক্ষেত্রে নির্বাচন যে অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়েছে ব্রতী তাই প্রকাশ করেছে । এন জি ওগুলো দাতা সংস্থার কাছ থেকে টাকা এনে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে কাজ করছে এ বিষয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া কি ? জানতে চাইলে শারমিন মুরশিদ বলেন, এটি একেবারেই ভিত্তিহীন কথা । তিনি বলেন, দাতাদের কাছ থেকে টাকা এনে তা সঠিক কাজেই ব্যয় করা হয় । তিনি বলেন, ব্রতী তার ফান্ড কিভাবে ব্যয় করে তার প্রমাণ আগামীতে গনমাধ্যমের কাছে তুলে ধরা হবে । বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিষ্ট রেজোয়ান সিদ্দিকি বলেন, সাম্রাজ্যবাদীদের কাছ থেকে টাকা পেয়ে এইসব এন জি ও তাদের ইচ্ছা বাস্তবায়ন করছে । তিনি বলেন ,সেক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন তাদের মাধ্যমে বলাতে চেষ্ট করছে যে, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্টু হয়েছে । তিনি বলেন, তাদের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন নিজেদের বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করছে । এদিকে ফেয়ার ইলেকশন মনিটরিং এ্যাসোসিয়েশন বা ফেমার পক্ষ থেকে রোববার স্থানীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণের রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে । এতে নির্বাচনের বেশ কিছু অমিলের চিত্র তুলে ধরা হয় । ফেমার চেয়ারম্যান মুনিরা খানের কাছে জানতে চেয়েছিলাম স্থানীয় নির্বাচনে এন জি ওগুলো নির্বাচন কমিশনের পক্ষে কাজ করেছে কিনা ? তিনি বলেন, এন জি ওগুলো নির্বাচন কমিশনের অধীন কোন প্রাতিষ্ঠান নয় যে, তারা কমিশনের পক্ষে কাজ করবে । তিনি বলেন, নিজেদের স্বার্থ আদায় না হওয়ার কারণেই কেউ কেউ অভিযোগ করছেন এন জি ও গুলো নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পারেনি । মুনিরা খান বলেন, তিনটি বিষয়ে কমিশনের সাথে এন জি ও গুলো চুক্তি বদ্ধ হয়েছিল । যার মধ্যে আমরা বলেছি, ভোটারদের উদ্বুদ্ধকরণ কাজের অংশ হিসেবে মাইকিং করা, র্যা লী করা । এসব কাজ এন জি ও গুলো করবে । এর বাইরে কমিশনের সাথে আমাদের কোন ধরণের চুক্তি হয়নি । কাজেই নির্বাচন কমিশনের পক্ষে এন জি ও গুলো কাজ করেছে এই অভিযোগ ভিত্তিহীন । সংশ্লিষ্টরা বলছেন ,এন জি ওদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ বিভিন্ন সময়েই উঠে আসছিল । কাজেই এন জি ওরা তাদের টাকা কোন খাতে কি ভাবে ব্যয় করে এবং তাদের কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জন্য সরকারকে মনিটরিং ব্যবস্থা আরো জোরদার করতে হবে।
-ঢাকা থেকে বেনজির আহমদ

আপনার মন্তব্য দিন

You must be logged in to post a comment.