11th Aug 2008
ফিলিস্তিনি কবি মাহমুদ দরবিশের ইন্তেকাল
ফিলিস্তিনের জাতীয় কবি হিসেবে পরিচিত মাহমুদ দরবিশ (৬৭) গত শনিবার মারা গেছেন। ফিলিস্তিনি কবিদের মধ্যে বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি পরিচিত ও আরব বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক কবি হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। তার মৃত্যুতে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন।
মাহমুদ দরবিশের মৃত্যুর পর গত শনিবার এক টেলিভিশন বক্তৃতায় প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেন, ‘আরব ও ইসলামি বিশ্বের যারা শান্তি ও স্বাধীনতা ভালোবাসে তারা ফিলিস্তিনি এই তারকা কবির মৃত্যুতে শোকাহত। ফিলিস্তিনের আধুনিক সংস্কৃতির পথিকৃৎ ছিলেন তিনি। তার মৃত্যুতে আমাদের সংস্কৃতি, রাজনৈতিক ও জাতীয় জীবনে বিরাট শূন্যতা তৈরি হবে।’
কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনের একটি হাসপাতালে ওপেন হার্ট সার্জারি করা হয় দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভুগতে থাকা এই কবির। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পরও জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের এক মুখপাত্র এ কথা জানিয়েছেন।
১৯৪১ সালের ১৩ মার্চ হাইফার কাছে ফিলিস্তিনি গ্রাম আল-বিরওয়াতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ১৯৪৮ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে তার পুরো গ্রাম ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলে তিনি ও তার পরিবার পালিয়ে যান। পরে ক্ষুরধার লেখনী ও গভীর পর্যবেক্ষণ শক্তির অধিকারী এই কবি পুরো মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমে ফিলিস্তিনি সাংস্কৃতিক আন্দোলনের প্রতীকে পরিণত হন।
মাহমুদ দরবিশ তার লেখনী এবং রাজনৈতিক অন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় উপস্থিতির মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা আন্দোলন বেগবান হয়েছে। ইসরাইলি দখলদারিত্বের তীব্র বিরোধিতার পাশাপাশি সব সময়ই ফিলিস্তিনি রাজনীতির দ্বিধাবিভক্তির কঠোর সমালোচনা করে গেছেন তিনি।
স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে ১৯৮৮ সালে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি ছিল কবি মাহমুদ দরবিশের লেখা। ফিলিস্তিনি নেতা ইয়াসির আরাফাত বিশাল এক রাজনৈতিক সমাবেশে একতরফা ওই স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি পাঠ করেছিলেন।
যৌবনেই ‘পিএলও’ বা প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনে যোগ দিয়ে স্বাধীনতার যুদ্ধে সক্রিয় ছিলেন তিনি। কিন্তু ১৯৯৩ সালে ইয়াসির আরাফাত ইসরাইলের সাথে অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করায় পিএলও থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। ১৯৯৬ সালে পশ্চিম তীরে বসবাস শুরু করেন দরবিশ।
১৯৬০ সালে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ উইংলেস বার্ড (পাথহীন পাখি) প্রকাশের মধ্য দিয়ে আরব সাহিত্য সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পরিচিতি লাভ করেন তিনি। প্রায় অর্ধশত কাব্যগ্রন্থের পাশাপাশি বেশ কিছু গল্প এবং স্মৃতিচারণ ও আত্মজীবনীমূলক রচনাও রয়েছে তার।
১৯৬৯ সালে আফ্রো-এশীয় লেখক শিবিরের ‘দ্য লোটাস প্রাইজ’, ১৯৮৩ সালে রাশিয়ার ‘লেনিন পিস প্রাইজ’ এবং ১৯৯৩ সালে ফ্রান্সের ‘দ্য নাইট অব দ্য অর্ডার অব আর্টস অ্যান্ড লেটারস’সহ বেশ কয়েকটি পুরস্কারেও ভূষিত হয়েছেন মাহমুদ দরবিশ। -এএফপি ও বিবিসি
আপনার মন্তব্য দিন
You must be logged in to post a comment.