11th Aug 2008

ব্রাজিল, তুরস্ক, আফ্রিকায় বাংলাদেশী পণ্যের প্রবেশাধিকারের উদ্যোগ

ব্রাজিলসহ ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলো এবং তুরস্ক ও আফ্রিকাসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশী পণ্যের প্রবেশাধিকারের জোরালো প্রচেষ্টা চালানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে চলতি মাসেই বাণিজ্য উপদেষ্টার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল যাচ্ছে তুরস্কে। এ ছাড়া ব্রাজিলকে কেন্দ্র করে ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোতে বাণিজ্য সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য কয়েক মাসের মধ্যে একটি বড় বাণিজ্য প্রতিনিধি দল প্রেরণ করা হবে।
বাণিজ্য উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান গতকাল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জেনেভার ‘মিনি-মিনিস্টারিয়েল’ বৈঠকে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ, অর্জিত সাফল্য ও পরবর্তী করণীয় বিষয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। গত ২১ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত জেনেভায় বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও ) এ মিনি-মিনিস্টারিয়েল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মূলত কৃষি ও নন-অ্যাগ্রিকালচারাল মার্কেট একসেস (নামা) সংক্রান্ত মডালিটিজ সম্পর্কে ঐকমত্যে উপনীত হওয়া এ সভার লক্ষ্য ছিল। তবে অন্যান্য বিষয়ও এতে এজেন্ডাভুক্ত ছিল। বৈঠকে নির্বাচিত ৩৫টি দেশের বাণিজ্যমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। স্বল্পোন্নত দেশগুলো থেকে ‘এলডিসি গ্রুপ’-এর বর্তমান কো-অর্ডিনেটর লেসোথো ও বাংলাদেশকে এ সভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়।
জেনেভায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ‘মিনি-মিনিস্টারিয়েল’ বৈঠকে শুল্ক-কোটামুক্ত বাজার সুবিধা ও প্রেফারেন্স ইরোশন ইস্যুসহ বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুতে বেশ সাফল্য অর্জিত হয়েছে বলে বাণিজ্য উপদেষ্টা দাবি করেছেন। তিনি বলেন, এ বৈঠকে বাংলাদেশের দৃঢ় ও জোরালো ভূমিকার কারণে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বাংলাদেশকে এ সভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়।
জেনেভায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ‘মিনি-মিনিস্টারিয়েল’ বৈঠকে শুল্ক-কোটামুক্ত বাজার সুবিধা ও প্রেফারেন্স ইরোশন ইস্যুসহ বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুতে বেশ সাফল্য অর্জিত হয়েছে বলে বাণিজ্য উপদেষ্টা দাবি করেছেন। তিনি বলেন, এ বৈঠকে বাংলাদেশের দৃঢ় ও জোরালো ভূমিকার কারণে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মহাপরিচালক পাসকেল লামি তার বক্তৃতায় বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধার মাধ্যমে ‘কমার্শিয়ালি মিনিংফুল মার্কেট অ্যাকসেস’ নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করেন। এ ছাড়াও তিনি প্রেফারেন্স ইরোশন সম্পর্কিত এনেক্স-৪-এ পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার সাথে বাংলদেশ, নেপাল ও কম্বোডিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে উল্লেখ করেন। বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘নন-অ্যাগ্রিকালচারাল মার্কেট অ্যাকসেস’ (নামা) সংক্রান্ত পরবর্তী মডালিটিজে এসব বিষয় প্রতিফলিত হবে। মিনি-মিনিস্টারিয়েল বৈঠকে অর্জিত সাফল্য ধরে রাখতে এলডিসি, আসিয়ান, জি-৯০ ও এসিপি গ্রুপের সমর্থন জোরালো করার প্রচেষ্টার ওপর জোর দেন উপদেষ্টা। বিশেষ করে এলডিসি গ্রুপের আফ্রিকান দেশগুলোর সাথে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করার প্রচেষ্টা চালাতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার আওতায় এসব সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে অন্যান্য দেশের বাজারে শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকারের চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। বিশেষ করে আমেরিকায় শুল্ক ও কোটামুক্ত যে ৯৭ শতাংশ পণ্যের কথা বলা হয়েছে, তাতে বাংলাদেশের প্রধান রফতানি পণ্যগুলো অন্তর্ভুক্তির চেষ্টা দ্বিপক্ষীয় পর্যায়েও অব্যাহত রাখতে হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে হলে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। এ ব্যাপারে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে এবং রাজনীতিতে গুণগত উত্তরণ ঘটাতে হবে।   -নিজস্ব প্রতিবেদক

আপনার মন্তব্য দিন

You must be logged in to post a comment.