19th Oct 2008
ঋণ না নিয়েও ঋণের জালে -(কৃষি ব্যাংক)
বাগেরহাট কৃষি ব্যাংকের সাবেক এক সিবিএ নেতার কারসাজিতে ঋণ না নিয়েও ঋণের জালে জড়িয়ে পড়েছে অনেকে। এ ছাড়াও ওই সিবিএ নেতার বিরুদ্ধে কর্মচারীদের বদলি ও লোন পাইয়ে দেয়ার জন্য উৎকোচ গ্রহণ, বেআইনিভাবে ঋণ প্রদান, ভুয়া ব্যক্তির নামে ঋণ দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ, জমির ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে ঋণ প্রদান, কর্মচারী ও লোনিদের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে পরিশোধ না করে হুমকি দেয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহায়তায় তিনি নির্বিঘ্নে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন। একজন তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী হয়েও স্বল্প সময়ের ব্যবধানে অর্থ-বিত্তের মালিক হন ওই সিবিএ নেতা মোশাররফ হোসেন। কাশিমপুর গ্রামের এম এ আর মল্লিক গত ১৫ সেপ্টেম্বর কৃষি ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক বরাবর এ মর্মে এক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়, ফজলুর রহমান মোল্লা নামে ৯০ হাজার টাকার ভুয়া লোন দেখিয়ে ওই টাকা আত্মসাৎ করেছেন ওই সিবিএ নেতা। এ ছাড়া রেজাউল করিম নামের একই ব্যক্তিকে উৎকোচের বিনিময়ে ২৫ হাজার টাকার দু’টি লোন প্রদান, ঋণ গ্রহীতা আজিম উদ্দিনের কাছ থেকে ৬ হাজার, শেখ ইব্রাহিমের কাছ থেকে ৮ হাজার টাকা এবং মোদাচ্ছের তরফদারের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নিয়েছেন উৎকোচ হিসেবে। কোনো সময় ধার হিসেবেও টাকা নিয়েছেন তিনি।
অপর দিকে ভুয়া জমি দেখিয়ে শেখ আতিয়ার রহমানকে ৯০ হাজার টাকা ঋণ প্রদানের আগে বিক্রীত জমির কাগজ দেখিয়ে রেজাউল কবিরকে ৬৫ হাজার ও মল্লিক মাছুম বিল্লাহকে ২২ হাজার টাকা, কোনো জমিজমা নেই এমন কামাল শেখকে ৩০ হাজার ও শেখ ওমর ফারুক মনিকে ২৫ হাজার টাকা ভুয়া কাগজ দেখিয়ে ঋণ প্রদান করেছেন।
অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, মোশারেফ হোসেন রায়েন্দা শাখার আবুল হোসেনের কাছ থেকে ১২ হাজার ৫০০ টাকা, বাগেরহাট শাখার রেজাউল কবিরের কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা, পিয়ন আবদুল হাকিম মোল্লার কাছ থেকে ২ হাজার টাকা, আঞ্চলিক কার্যালয়ের খায়রুল হোসেনের কাছ থেকে ১ হাজার টাকা, দৈবজ্ঞহাটী শাখার কামরুজ্জামানের কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা এবং চাকশ্রী বাজার শাখার এম এ রউফের কাছ থেকে ৪ হাজার টাকা উৎকোচ গ্রহণ করে। এ ছাড়া দৈবজ্ঞহাটী শাখার আবুল কবিরের কাছ থেকে ৯০ হাজার এবং বাগেরহাট শাখার আলমগীর হোসেনের কাছ থেকে ৪ হাজার টাকা ধার হিসেবে গ্রহণ করে আর ফেরত দেয়নি। বাগেরহাট কৃষি ব্যাংকের পিয়ন মোল্লা শাহিনুল ইসলামকে ১ লাখ টাকা ঋণ পাইয়ে দেয়ার জন্য তার কাছ থেকে ৮ হাজার উৎকোচ গ্রহণ করেছে বলে গত ২২ সেপ্টেম্বর এমডি বরাবর অভিযোগ করা হয়েছে। বর্তমানে ওই সিবিএ নেতা কৃষি ব্যাংক দরগাহ শাখায় কর্মরত। ওই এলাকায় আগের মতই দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছে বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে।
এ সব অভিযোগ জানাজানি হয়ে গেলে ফজলুল রহমান মোল্লার ভুয়া লোনের ৯০ হাজার টাকা এবং শেখ রেজাউল করিমের দ্বৈত লোনের ২৫ হাজার টাকা পরিশোধ করে অপরাধ থেকে বাঁচার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ভুক্তভোগী কর্মচারী ও ঋণগ্রহীতারা এই দুর্নীতিবাজ সিবিএ নেতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। এ সব অভিযোগ সম্পর্কে কথা হলে ওই সিবিএ নেতা ও বর্তমান দরগাহ শাখায় কর্মরত আইও মোশারেফ হোসেন সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি ষড়যন্ত্রের স্বীকার হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।
-রবিউল ইসলাম বাগেরহাট
আপনার মন্তব্য দিন
You must be logged in to post a comment.