19th Oct 2008
শুধু জিয়া নয়, অনেক মুক্তিযোদ্ধা অফিসার হত্যায় এরশাদ জড়িত
-চ্যানেল আইকে কর্নেল (অব.) অলি
চ্যানেল আইকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এলডিপি’র সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেছেন, শুধু জিয়া হত্যাকাণ্ড নয়, আরো অনেক মুক্তিযোদ্ধা ও সামরিক অফিসার হত্যাকাণ্ডেও জড়িত ছিলেন সাবেক সেনাপ্রধান এরশাদ।
জিয়া হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত পরিকল্পিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই ঘটনায় এক ঢিলে দুই পাখি মারা হয়েছে। ওই সময়ের বিএনপি নেতৃত্বের দিকেও হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত দিয়েছেন কর্নেল অলি আহমদ।
রাষ্ট্রপতি জিয়া হত্যাকাণ্ডের পর সামরিক বিদ্রোহের বিচারে অভিযুক্তদের অন্যতম কৌশলী ছিলেন মেজর জেনারেল সৈয়দ মোঃ ইবরাহীম বীরপ্রতীক। বিচারে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত এক কর্মকর্তার মৃত্যুবার্ষিকীতে তিনি ওই বিদ্রোহের বিচারে অনিয়ম এবং জিয়া হত্যাকাণ্ডে এরশাদের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে অভিযোগ তোলেন। তার বক্তব্যের সূত্র ধরে চ্যানেল আইয়ের কাছে প্রায় একই রকম কথা বলেন মেজর জেনারেল (অবঃ) আয়েন উদ্দিন, বীরপ্রতীক, লেঃ জেনারেল মীর শওকত আলী বীরউত্তম ও মেজর জেনারেল মইনুল হোসেন চৌধুরী বীরবিক্রম। তবে এরশাদ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জিয়া ছিলেন বেসামরিক রাষ্ট্রপতি। তাই জিয়ার নিরাপত্তার দায়িত্ব তার ছিল না। এরশাদের এই দাবি উড়িয়ে দেন কর্নেল (অবঃ) অলি আহমদ। তিনি বলেন, বান্দরবান, চট্টগ্রাম সেনানিবাস থেকে বেরিয়ে সার্কিট হাউসে গিয়ে জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয়। সুতরাং সেনাপ্রধান হিসেবে এরশাদ এখানে দায়িত্ব এড়াতে পারেন না। মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে যেসব ভালো অফিসার ছিলেন, যাদের দমন করা এরশাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না ক্রমন্বয়ে তাদের সবাইকে বদলি করে চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রত্যেকটি ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডের গুরুত্বপূর্ণ অফিসার, ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার এবং মঞ্জুরের নেতৃত্বে ডিভিশনের প্রত্যেক অফিসার মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। এরশাদ একসাথে সবাইকে ধ্বংস করেছেন। অর্থাৎ এক ঢিলে সব পাখি তিনি শিকার করেছেন। জিয়াকে হত্যা করেছেন। সেই সাথে যেসব মুক্তিযোদ্ধা বেঁচে থাকলে তার পক্ষে ক্ষমতা দখল করা সম্ভব ছিল না, তাদেরও তিনি ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলিয়েছেন বা চাকরিচ্যুত করেছেন।
জিয়া হত্যাকাণ্ডে সে সময়ের বিএনপি নেতৃত্বের আরো শীর্ষ কোনো নেতা জড়িত ছিলেন কি না, তাও খতিয়ে দেখা দরকার বলে মনে করেন বিএনপি ছেড়ে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি গঠন করা বীরবিক্রম খেতাবে ভূষিত এই নেতা। তিনি বলেন, আমি মনে করি না, এরশাদ এতে একাই ছিলেন। জিয়াকে সার্কিট হাউসের যে রুমে হত্যা করা হয় তার পাশের রুমেই ছিলেন বিএনপি’র কয়েকজন ঊর্ধ্বতন নেতা। তাদের কাউকেই গুলিও করা হয়নি কিংবা তাদের দরজায় কেউ লাথিও মারেনি। তাহলে বোঝা যায়, ওই রুমে যে সিনিয়র নেতারা ছিলেন তারা জিয়া হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনার কথা জানতেন এবং এরশাদের সাথে তাদের একটি গোপন আঁতাত ছিল।
জিয়া হত্যাকাণ্ডের সময় অলি আহমদ ছিলেন বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। ১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়া সরকার গঠন করলে তিনি যোগাযোগমন্ত্রীর দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। ১৯৮৪ সাল থেকে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য থাকলেও ২০০৬ সালে বিএনপি ছেড়ে যান ড. কর্নেল অলি আহমদ।
-নয়া দিগন্ত ডেস্ক
আপনার মন্তব্য দিন
You must be logged in to post a comment.