24th Oct 2008
গ্রামীণ ব্যাংক ও ব্র্যাকের কিস্তির টাকা জোগাড় করতে না পেরে আত্মহত্যা
অভাব-অনটনের সাথে লড়াই করে হেরে গেলেন হরিলাল। ঋণের দায় এড়াতে উপায়ন্তর না পেয়ে অবশেষে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন পঞ্চাশোর্ধ্ব এ ব্যক্তি। চাঞ্চল্যকর ওই ঘটনাটি ঘটেছে ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামের হিন্দুপাড়ায়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আজ বৃহস্পতিবার ছিল ব্র্যাকের ৩০০ টাকার কিস্তি ও আগামী রোববার গ্রামীণ ব্যাংকের ৭৬৫ টাকার সাপ্তাহিক কিস্তির দিন। গতকাল পর্যন্ত ওই টাকা জোগাড় করতে ব্যর্থ হয়ে হরিলাল দেবনাথ নিজ ঘরের চালের সাথে গলায় রশি লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন।
হরিলালের স্ত্রী অর্চনা দেবনাথ ও বাড়ির লোকজন জানান, পার্শ্ববর্তী মিরশ্বরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ বাজারের ফুটপাথে হাতে তৈরি পাখা, ঝাড়ু, কুলা ইত্যাদি বিক্রি করে কোনো রকমে স্ত্রী আর পাঁচ কন্যা সন্তানের সংসার চালাতেন হরিলাল। দুই বছর আগে বড় মেয়ে ফুলেশ্বরী দেবনাথকে বিয়ে দিতে গ্রামীণ ব্যাংক, দারোগারহাট শাখা থেকে ২৯ হাজার টাকা ও ব্র্যাক থেকে ১০ হাজার টাকা ঋণ নেন তিনি। সাপ্তাহিক কিস্তির টাকা দিতে অপর দুই মেয়েকে চট্টগ্রামে একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে চাকরিতে দেন। সম্প্রতি তারা চাকরি হারিয়ে বাড়ি ফিরে এলে সংসারে ভোগান্তি বেড়ে যায়।
এনজিও’র কিস্তি শোধে গ্রামের লোকজন থেকে চড়া সুদে আরো ঋণ নেন তিনি। বহুমুখী ঋণের চাপে আর পরিবারের অনটন সইতে না পেরে অবশেষে হরিলাল আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।
গ্রামীণ ব্যাংকের শাখা ম্যানেজার তোফাজ্জল হোসেন তরফদার বলেন, শুধু গ্রামীণ ব্যাংক থেকে নয়, হরিলাল বিভিন্ন জায়গা থেকে মোটা অঙ্কের ঋণ নিয়েছিলেন।
ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম জানান, তিনি সকালে ইউপি মেম্বারের মাধ্যমে হরিলালের আত্মহত্যার খবর জেনেছেন।
-ফেনী অফিস
আপনার মন্তব্য দিন
You must be logged in to post a comment.