24th Oct 2008

মহারাষ্ট্র ও গুজরাটে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় হিন্দুত্ববাদী সংগঠন

-পুলিশের স্বীকারোক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠল ভারতের পার্লামেন্টেও
 
শেষ পর্যন্ত ঝুলি থেকে বিড়াল বেরিয়েই পড়ল। অবশেষে মহারাষ্ট্রের পুলিশ বলেছে, রমজান মাসে একই দিনে (সেপ্টেম্বর ২৯) মহারাষ্ট্রের মুসলিম প্রধান মালেগাঁও ও গুজরাটের মোদাসা শহরে যে নারকীয় বিস্ফোরণ ঘটে, তার পেছনে ছিল ‘হিন্দু জাগরণ মঞ্চ’ নামে উগ্রপন্থী একটি সাম্প্রদায়িক সংগঠন। এই সংগঠনটির মূল কার্যালয় মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে অবস্থিত। হিন্দু এই জঙ্গি সংগঠনটির সাথে বিজেপি’র ছাত্র সংস্থা ‘অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ’ (এবিভিপি)র ঘনিষ্ঠ সংযোগ রয়েছে। দু’টি সংগঠনই আরএসএস নেতৃত্বাধীন সঙ্ঘ পরিবারের অঙ্গ সংগঠন। চাঞ্চল্যকর খবরটি ফাঁস করেছে ইংরেজি দৈনিক ‘দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’। মহারাষ্ট্রের পুলিশ এখন মূল সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে। সাম্প্রদায়িক সংবেদনশীল শহর বলে পরিচিত মহারাষ্ট্রের মালেগাঁওতে ২৯ সেপ্টেম্বর এক বিস্ফোরণে পাঁচজন মুসলমান নিহত ও আরো অনেকে আহত হয়। একই দিনে প্রায় একই সময়ে পার্শ্ববর্তী গুজরাটের মোদাসা শহরে মসজিদের পাশে বিস্ফোরণে এক মুসলিম কিশোর প্রাণ হারায়।
দু’টি শহরেই ঈদের আগে মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলে জনবহুল শপিং এলাকায় পার্ক করা মোটরসাইকেলের মধ্যে বোমা রাখা ছিল। আর ইফতার ও নামাজের খানিকক্ষণ পরই এই বিস্ফোরণ ঘটে। দিল্লি, জয়পুর ও অন্যান্য শহরের বিস্ফোরণের মতো মালেগাঁও ও মোদাসা বিস্ফোরণেরও বিজেপি নিন্দা করে। তদন্তকারী এজেন্সিগুলো প্রথামতো ইসলামি সংগঠনগুলোকেই এর জন্য দায়ী করে। তারা জানায়, সিমি অথবা ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন এ ঘটনার জন্য দায়ী।
উল্লেখ্য, বেঙ্গালুর, আহমদাবাদ এবং দিল্লিতে কয়েক দিন পর পর যে সিরিয়াল বিস্ফোরণ ঘটে ঠিক তার পরই মালেগাঁও ও মোদাসাতে এই জোড়া বিস্ফোরণ সংঘটিত হয়। ফলে কথিত এই মুসলিম সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। টেলিভিশন চ্যানেলগুলোও কথিত মুসলিম সন্ত্রাসবাদীদের দায়ী করে ব্যাপক প্রচারণা শুরু করে। মালেগাঁওতে বিস্ফোরকবাহী মোটরসাইকেলটি পার্ক করা ছিল অধুনা নিষিদ্ধ স্টুডেন্টস ইসলামিক মুভমেন্ট অব ইন্ডিয়া বা সিমি’র দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত তালাবদ্ধ কার্যালয়ের নিচে এক রাস্তায়। এ ছাড়া মোদাসাতেও বিস্ফোরক রাখা মোটরসাইকেলের সিটে ইসলামি স্টিকার লাগানো ছিল। স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছিল, যারা এ কাজ করেছে তারা চায়­ মানুষ যেন মনে করে মুসলমানরাই এই বিস্ফোরণের জন্য দায়ী। পুলিশ অবশ্য এখন বলছে, তাদের ভুল পথে পরিচালিত করার জন্যই এসব করা হয়।
মহারাষ্ট্রের শীর্ষ পুলিশ কর্তারা তদন্তের এই নয়া মোড়ের কথা স্বীকার করেছেন। কিন্তু তারা এর বিস্তারিত তথ্য জানাতে রাজি হননি। তারা বলছেন, বিষয়টি স্পর্শকাতর বলে সব কথা এখন বলা যাবে না। তবে তারা এও বলেছেন, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এ বিষয়ে অবহিত রয়েছে।
এ দিকে গতকাল সংসদের কয়েকজন সদস্য হিন্দু জাগরণ মঞ্চের এই অপকীর্তির কথা পার্লামেন্টে উত্থাপন করেন। সিপিএম’র সংসদ সদস্য বৃন্দা কারাত বলেন, হিন্দু জাগরণ মঞ্চ ও বজরং দল বিস্ফোরণগুলো ঘটিয়েছে বলে মহারাষ্ট্র পুলিশের অ্যান্টি টেরোরিস্ট স্কোয়াড জানিয়েছে। তিনি বলেন, দেশে যখনই কোনো বিস্ফোরণ হয় সন্ত্রাসী কার্যকলাপের জন্য বিশেষ এক সম্প্রদায়ের দিকে আঙুল তোলা হয়। অথচ বজরং দল কিংবা হিন্দু জাগরণ মঞ্চের ভূমিকা সম্পর্কে সরকার নিশ্চুপ থাকে। বিজেপি সদস্যরা অবশ্য এই বক্তব্যের বিরোধিতা করে পার্লামেন্টে তীব্র হই চই করে।
উল্লেখ্য, ভারতে সিরিয়াল বিস্ফোরণগুলোর সাথে জড়িত থাকা সন্দেহে পুলিশ কয়েক শ’ শিক্ষিত মুসলিম তরুণকে গ্রেফতার করেছে।

-আহমদ হাসান ইমরান ভারত

আপনার মন্তব্য দিন

You must be logged in to post a comment.