11th Nov 2008

আক্কেলপুরে কথিত পীরের নির্দেশে দম্পতির জীবন্ত জানাজা

‘খেলাফত’ লাভের আশায় কথিত পীরের নির্দেশে জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে এক দম্পতির জীবন্ত নামাজে জানাজা করে তাদের নিষ্পাপ করা হয়েছে। জানাজার আগে মৃত ব্যক্তির অনুরূপ গোসল, আতর, সুরমা লাগিয়ে তাদের পরানো হয় কাফনের কাপড়। পীরের খেলাফত প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ওই পীরের অনুসারী ও কিছু বহিরাগত লোকজন। বৃহস্পতিবার সকালে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে আক্কেলপুর পৌর সদরের জিয়ানীপাড়া মহল্লায়।ওই মহল্লার রেজাউল (৫২) ও তার স্ত্রী মুরশিদাকে (৪০) এ খেলাফত দেয়া হয়। এ ঘটনায় ওই এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনাকে ভণ্ডামি ও ইসলামবিরোধী বলে আখ্যায়িত করে কথিত ওই পীরকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন ওই এলাকার আলেম ওলামার। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর সরেজমিন খোঁজ নিতে গেলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ‘রেজাউল ইসলাম পেশায় একজন মৎস্য ব্যবসায়ী। তিনি কয়েক বছর আগে রাজবাড়ী জেলার পাংশার কথিত পীর পল্লী চিকিৎসক আজগর আলীর মুরিদ হন। পাপমোচনের লক্ষ্যে মুরিদ রেজাউল ইসলাম ও তার স্ত্রী মুরশিদা বেগমকে বৃহস্পতিবার খেলাফত দেয়া হয়। খেলাফত দেয়ার আগে পীরের নির্দেশে তাদের বরই পাতা দিয়ে গোসল করিয়ে পরানো হয় কাফনের কাপড়। রেজাউলকে পুরুষ অনুসারী ও তার স্ত্রীকে মেয়ে অনুসারীরা গোসল করিয়ে দেন। বাড়ির উঠোনে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পীর আজগর আলী তাদের জানাজা পড়ান। রেজাউল দম্পতির বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, রেজাউল ও তার স্ত্রী মুরশিদা সাদা কাপড় পরে আছেন। দু’জনের গলায় ছিল বড় বড় তসবি। পাশের ঘরে চৌকিতে বসেছিলেন কথিত পীর পল্লী চিকিৎসক আজগর আলী (৭০)। তিনি জানান, তার বাড়ি রাজবাড়ী জেলার পাংশায়। আক্কেলপুরে তার প্রায় ২০ জন মুরিদ রয়েছেন। সারাদেশে তার প্রায় দুই হাজার মুরিদান রয়েছে। রেজাউল ও তার স্ত্রী মুরশিদাকে খেলাফত দিয়েছেন। এখন থেকে তারা মুরিদ দেয়ার কাজ করবে। খেলাফতপ্রাপ্ত রেজাউল ও তার স্ত্রী মুরশিদা জানান, তারা দু’জনই পীরের খেলাফত পেয়েছেন। সাদা পোশাকে তাদের আড়াইদিন থাকতে হবে। তিনি বলেন, দুনিয়াতে অনেক পাপ কাজ করেছি এখন খেলাফত পেয়ে নিষ্পাপ হয়েছি। আক্কেলপুর উপজেলা জামে মসজিদের পেশ ইমাম ও ইমাম সমিতির সভাপতি হাফেজ মোঃ মিজানুর রহমান এ ঘটনাটিকে ভণ্ডামি আখ্যায়িত করে বলেন, ‘এ রকম ঘটনার নির্দেশদাতার শাস্তি হওয়া উচিত।’ আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজা মুহাম্মদ আবদুল হাই বলেন, ‘আমি ঘটনাটি জানতাম না।’ তিনি এ বিষয়টির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য থানা পুলিশকে অবহিত করবেন বলে জানান। থানার কর্তব্যরত ডিউটি অফিসার সেলিম মালিক বলেন, এ ঘটনাটি আমাকে কেউ অবহিত করেননি।

-জয়পুরহাট প্রতিনিধি

আপনার মন্তব্য দিন

You must be logged in to post a comment.