11th Nov 2008
যুক্তরাষ্ট্রের নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের গুয়ান্টানামো বে’র বন্দী শিবির বন্ধ করার সিদ্ধান্ত
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গুয়ান্টানামো বে’র বন্দী শিবির বন্ধ করে দেবেন বলে তার উপদেষ্টারা খবর দিয়েছেন। ওবামার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ডেনিস ম্যাকডোনাগ এ খবর জানিয়ে বলেছেন, তবে গুয়ান্টানামো নির্যাতন শিবির বন্ধ করে দেয়ার তারিখ নির্ধারণ করা হয় নি। রাজনৈতিক ভাষ্যকারদের মতে, পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর বারাক ওবামার সামনে যেসব গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে, তার একটি হচ্ছে কূখ্যাত গুয়ান্টানামো বন্দীশিবির। কিউবা’র দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত ঐ বন্দীশিবিরটিতে বর্তমানে কথিত সন্ত্রাসী তৎপরতায় জড়িত থাকার সন্দেহে ২৫০ জনেরও বেশী ব্যক্তিকে আটক রাখা হয়েছে। গত ৭ বছর ধরে গুয়ান্টানামো বন্দী শিবির মানবাধিকার লংঘন ও পাশবিক নির্যাতনের ঘাঁটি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। এই সাত বছর ঐ শিবিরের বন্দীদের ওপর অকথ্য ও অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। এসব নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সেখানকার অনেক বন্দী আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছে। মার্কিন সরকার গুয়ান্টানামাতে আটক বন্দীদের বিচার করতেও অস্বীকার করেছে। এ কারণে ঐ নির্যাতন ক্যাম্পে আটক ব্যক্তিদের ভবিষ্যত সাত বছর পর এখনো অনিশ্চিত। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সমাজ বহুবার গুয়ান্টানামো বন্দীদের মুক্তি দিতে অথবা তাদের বিচার করার আহবান জানিয়েছে। কিন্তু হোয়াইট হাউজ নিরাপত্তা রক্ষার অজুহাতে ঐ আহবান প্রত্যাখ্যান করেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ধারণা করছে, বারাক ওবামা প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করার পর তিনি গুয়ান্টানামোর আড়াইশ বন্দীর অধিকাংশকে তাদের নিজ নিজ দেশের সরকারের কাছে হস্তান্তর করবেন। অবশিষ্ট ব্যক্তিদের বিচার মার্কিন আইন অনুযায়ী করা হবে। বুশের নেতৃত্বাধীন বর্তমান মার্কিন প্রশাসন দাবি করছে, গুয়ান্টানামোতে আটক ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার দায়ে অভিযুক্ত বলে তাদের বিচার সামরিক আদালতে করতে হবে। কিন্তু মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রচলিত আইনে যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক আদালতে এসব ব্যক্তির বিচার দাবি করেছে। এ দাবি বাস্তবায়ন করা হলে গুয়ান্টানামো’র অধিকাংশ কয়েদি মুক্তি পেয়ে যাবেন, কারণ, তাদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ প্রমাণ করা যায় নি। সার্বিকভাবে বলা যায়, বারাক ওবামা ক্ষমতা গ্রহণ করার পরও গুয়ান্টানামো বে’র বন্দী শিবির বহাল রাখার বিষয়টি কারো কাছেই গ্রহণযোগ্য হবে না। এ কারণে বিশ্ববাসী আশা করছে, ঐ বন্দীশিবির বন্ধ করে দেয়ার যে ঘোষণা বারাক ওবামার উপদেষ্টারা দিয়েছেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর মিস্টার ওবামা অতি দ্রুত তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবেন।
আপনার মন্তব্য দিন
You must be logged in to post a comment.