14th Jul 2009
বিডিআরের ঘাতক সদস্যদের বিচার সেনা আইনে
* সাধারণ অপরাধের বিচার বিডিআরের আইনে
* নতুন নাম বর্ডার গার্ডস অব বাংলাদেশ
* পোশাকের রং বদলাবে, ধরন থাকবে কমব্যাট
বিদ্রোহের সময় সরাসরি হত্যার সঙ্গে জড়িত (ঘাতক) বিডিআরের সদস্যদের বিচার সেনা আইনেই হবে। তবে অপরাধভেদে বিদ্রোহে জড়িত কিছু সদস্যের বিচার হবে বিডিআরের নিজস্ব আইনে। সরকারের উচ্চপর্যায়ে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে দায়িত্বশীল সুত্র নিশ্চিত করেছে।
বিডিআরের নাম পরিবর্তন করে “বর্ডার গার্ডস অব বাংলাদেশ” সংক্ষেপে বিজি এবং কমব্যাট ধরন ঠিক রেখে পোশাকের রং পরিবর্তনেরও সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত করা হয়েছে। বিডিআরের দেওয়া প্রস্তাব অনুযায়ী সরকারি উচ্চপর্যায়ে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।
কাল বুধবার অনুষ্ঠেয় আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকে এসব বিষয় উত্থাপন করা হবে। আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ এ সভায় সভাপতিত্ব করবেন। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে এ সভায় ডাকা হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেলে হঠাৎ করে এ বৈঠক ডাকা হয়।
বিচার: ইতিমধ্যে বিডিআরের তিন হাজার জওয়ানকে বিদ্রোহে জড়িত সন্দেহে আটক করা হলেও চুড়ান্ত তদন্ত শেষে কতজন দায়ী, তা সিআইডির প্রতিবেদন পাওয়ার পরেই নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ডিএডি তৌহিদসহ ৩০ জনের মতো বিডিআর কর্মকর্তা ও জওয়ানের বিরুদ্ধে কোর্ট মার্শাল তথা সেনা আইনে বিচার হতে পারে। বাকি যেসব সদস্য দোষী সাব্যস্ত হবেন, তাঁদের বিচার হবে বিডিআরের আইনে।
আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ প্রথম আলোকে জানান, মূলত বিডিআর বিদ্রোহজনিত অপরাধ বিচারের ক্ষেত্রে কোন আইন প্রয়োগ করা হবে, সেটিই চুড়ান্ত করা হবে বৈঠকে। বিদ্রোহজনিত অপরাধ সেনা আইনে বিচারের ক্ষেত্রে বাধা নেই মর্মে আইন মন্ত্রণালয়ের দেওয়া মতামত সম্পর্কে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, পরিবর্তিত পরিস্িথতিতে কীভাবে কোন আইন ব্যবহার করা যাবে, তা ঠিক করতে বৈঠক ডাকা হয়েছে।
বিডিআর বিদ্রোহ ঘটনায় সেনা আইনে বিচারে কোনো অন্তরায় নেই বলে ১৮ মার্চ আইন মন্ত্রণালয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে বলে আইন মন্ত্রণালয় সুত্রে জানা গেছে।
জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রসচিব আব্দুস সোবহান সিকদার গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, সবকিছু চুড়ান্ত পর্যায়ে। বুধবারের সভায় সব বিষয় উত্থাপন করা হবে। সভা প্রয়োজন মনে করলে সিদ্ধান্তে পরিবর্তনও আনতে পারে। এ সভার সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভায় অনুমোদন নিয়ে বিচারের কাজ শুরু করা হবে।
অপরাধ চিহ্নিতকরণ: ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানাসহ সারা দেশে বিডিআর বিদ্রোহজনিত অপরাধকে দুই ভাগে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রথমত, বড় ধরনের অপরাধ তথা সরাসরি হত্যায় জড়িত ও সরকারি নির্দেশ অমান্য করে বিদ্রোহ অব্যাহত রাখা। দ্বিতীয়ত, সাধারণ অপরাধ, যেমন: বিশৃঙ্খল পরিস্িথতি তৈরি, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, ভাঙচুর।
যাঁরা সরাসরি হত্যায় জড়িত এবং সরকারি নির্দেশ অমান্য করে বিদ্রোহ অব্যাহত রেখেছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে বিচার হবে সেনা আইনে। আর সাধারণ অপরাধ অর্থাৎ যেসব অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তি সাত বছরের জেল ও জরিমানার বিধান রয়েছে, সেসব অপরাধের বিচার হবে ১৯৭৬ সালের বিডিআর আইনে।
১৯৭২ সালের বাংলাদেশ রাইফেলস অর্ডারে বিদ্রোহ-সংক্রান্ত অপরাধের বিচারের সুযোগ থাকলেও বিদ্রোহজনিত হত্যা ও লুন্ঠনের ঘটনা বিচারের সুযোগ নেই।
বাংলাদেশ রাইফেলসের প্রচলিত আইনানুযায়ী, বিপথগামিতা ও বিদ্রোহের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর সশ্রম কারাদন্ড এবং ১০০ টাকা জরিমানার বিধান আছে। এ আইনে আগ্নেয়াস্ত্রের প্রয়োগ অপরাধ হিসেবে গণ্য করা নেই।
সুত্র জানায়, দি আর্মি অ্যাক্ট, ১৯৫২-এর ৫ ধারার ক্ষমতাবলে সরকার দ্য বাংলাদেশ রাইফেলস অর্ডার, ১৯৭২ (পিও-১৪৮/৭২)-এর ৪ ধারার আওতায় গঠিত বিডিআর সদস্যদের জন্য আর্মি অ্যাক্টের কতিপয় বিধানের প্রয়োগের সুযোগ দিতে পারে।
সেনা কর্মকর্তা হত্যার ঘটনায় বিডিআরের বাইরের কেউ জড়িত থাকলে সে ক্ষেত্রে ১৮৬০ সালের চ্যাপ্টার ৬, ধারা ১৩১-১৪০ এবং দন্ডবিধির ৩০২ ধারার অপরাধে দ্য কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর, ১৮৯৮-এর আওতায় দায়রা আদালতে বা ট্রাইব্যুনালে বিচারের সুযোগ আছে।
নতুন নাম ও পোশাক: এ সম্পর্কে বিডিআর একক প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা না গেলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বিডিআরের নাম পাল্টে বর্ডার গার্ডস অব বাংলাদেশ রাখার সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত করেছে। পাশাপাশি পোশাকের ধরন কমব্যাট রেখে রং বদলানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আপনার মন্তব্য দিন
You must be logged in to post a comment.