02nd Jan 2010
আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হাতে জিম্মি দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের কয়েক কোটি মানুষ : মহাজোটের এক বছরে খুন ৪৭১, লুটপাট অগ্নিসংযোগ টেন্ডারবাজি কঠোর কর্মসূচি দেয়ার বিকল্প নেই: তরিকুল
যশোর অফিস
আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হাতে জিম্মি হয়ে আছে খুলনা বিভাগের অধীন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কয়েক কোটি মানুষ। মহাজোটের এক বছরে এ অঞ্চলে সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হয়েছে ৪৭১ জন। খুনসহ অপরাধমূলক অধিকাংশ ঘটনার সঙ্গে আওয়ামী লীগ আশ্রিত সন্ত্রাসীরা সরাসরি যুক্ত। গ্রেফতার তো দূরের কথা, ক্ষমতাসীনদের নির্দেশ ও জনপ্রতিনিধিদের আশ্রয়ে থাকার কারণে সন্ত্রাসীরা মদত ও সহায়তা পাচ্ছে প্রশাসনের।
বিএনপি এসব অনাচারের বিরোধিতা করে বছরব্যাপী নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় প্রতিবাদ করেছে। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হয়নি। ফলে কঠোর কর্মসূচি দেয়া ছাড়া বিএনপির সামনে আর কোনো পথ নেই— বলেছেন দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সংস্থা জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম।
মহাজোট সরকারের এক বছর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ কেমন আছে জানাতে বিএনপি যশোর জেলা শাখা গতকাল স্থানীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দলের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু। সংবাদ সম্মেলনে জেলা সভাপতি চৌধুরী শহিদুল ইসলাম নয়ন, অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম, দেলোয়ার হোসেন খোকন, রফিকুর রহমান তোতন, শামসুল হুদাসহ বিভিন্ন উপজেলা কমিটির নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, খুলনা বিভাগের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সবচেয়ে বেশি অবনতি হয়েছে যশোর জেলায়। এই জেলায় গত এক বছরে ১২৯ জন খুন হয়েছে, যা সামপ্রতিক সময়ের রেকর্ড। এছাড়া দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর হাতে গত এক বছরে ৩৩ বাংলাদেশী নিহত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জাতীয়তাবাদী চেতনাকে ধ্বংসের জন্য পরিকল্পিতভাবে বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হত্যা, দাঙ্গা-হাঙ্গামা, অগ্নিসংযোগ, বাড়ি ও জমি দখল, লুটপাট, ছিনতাই, দস্যুতা, নারী ও শিশু নির্যাতন, শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস ও টেন্ডারবাজির কারণে গোটা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এক অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে ক্ষমতাসীনরা। চোরাচালান ও মাদক ব্যবসার বিস্তার ঘটেছে আশঙ্কাজনকভাবে। ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনের রাত থেকেই গ্রাম-শহরে একযোগে শুরু হয় আওয়ামী সন্ত্রাস। দীর্ঘদিন পালিয়ে থাকা দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীরা বাড়ি ফিরে শুরু করে সাধারণ মানুষের ওপর নিপীড়ন। কোটি কোটি টাকা চাঁদা আদায় করেছে সন্ত্রাসীরা গত এক বছরে। সন্ত্রাসীদের চাঁদার দাবি মেটাতে ব্যর্থ হয়ে বহু লোক এখনও ঘরবাড়ি ছাড়া। শুধু শার্শা, চৌগাছা ও ঝিকরগাছার কয়েক হাজার মানুষ এখনও যশোর শহরে অবস্থান করে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
সংবাদ সম্মেলনে গত এক বছরে খুলনা বিভাগে সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় তুলে ধরা হয়। জানানো হয়, যশোরে নিহত ১২৯ জনের মধ্যে বেশ ক’জন রয়েছেন বিএনপির নেতাকর্মী। সুপরিকল্পিতভাবে এদের হত্যা করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করেছে আওয়ামী লীগ আশ্রিত সন্ত্রাসীরা। এছাড়া বহু নেতাকর্মীকে হাতুড়িপেটা ও ধারাল অস্ত্রের আঘাতে চিরতরে পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে। চিরতরে পঙ্গু হয়ে যাওয়া এমন কিছু বিএনপি নেতাকর্মীর নাম-ঠিকানাও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম বলেন, জাতীয়তাবাদী দল সবচেয়ে বেশি সময় বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল। কিন্তু বিএনপি আমলে কখনও এমন নারকীয় পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। বিএনপি সব ধরনের অত্যাচার-নির্যাতনের প্রতিবাদ করে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে প্রয়োজনে দেশের প্রধান বিরোধী দলটি কঠোর কর্মসূচি দিতেও পিছপা হবে না বলে জানান তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে তরিকুল ইসলাম বলেন, এ সরকার ভালো কাজ করেছে হাতেগোনা। তার মধ্যে বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের বিচারই প্রধান। সংবাদপত্র দলন, সাংবাদিকের ওপর হামলা ও হুমকি বাকশালী চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, সরকারের অপকর্মের খবর যাতে মিডিয়ায় আসতে না পারে, সেজন্য পরিকল্পিতভাবে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তিনি আমার দেশের বিরুদ্ধে সরকারি ষড়যন্ত্রের তীব্র নিন্দা জানান এবং অবিলম্বে হয়রানিমূলক মামলাগুলো প্রত্যাহারের দাবি জানান।
আপনার মন্তব্য দিন
You must be logged in to post a comment.