Archive for the 'স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা' Category

08th Aug 2008

এইডস প্রতিরোধ ও চিকিৎ‌সা

<<<মিক্সকো সিটির এইডস সম্মেলনে …
গত সোমবার থেকে শুরু করে শুক্রবার পর্যন্ত, মেক্সিকো সিটিতে হয়ে গেল বিশ্ব এইডস নিয়ে এক বিশাল সম্মেলন৷ ভিন্ন ভিন্ন দেশে এই মারণব্যাধি প্রতিরোধের ব্যবস্থা কতোটা এগিয়ে গেছে - সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে সেখানে৷

দেখা যাচ্ছে যে ভারত-বাংলাদেশে এইডস ছড়িয়ে পড়েছে ভয়ংকরভাবে ভাবে৷

এইডস কি?

Acquired Immune Deficiency Syndrome সংক্ষেপে AIDS হল HIV নামক ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট এক ব্যাধি, যা মানুষের শরীরে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা হ্রাস করে দেয়৷ তখন রোগীর শরীর অসহায় ভাবে আত্মসমর্পণ করে সরল-সহজ জীবাণুর সংক্রমণের কাছে৷ এতে করে, একজন এইডস রোগী খুব সহজেই যে কোন সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হতে পারেন, যা শেষ পর্যন্ত ঘটাতে পারে মৃত্যুও৷

দেহ প্রতিরোধী যে কোষগুলির মধ্যে HIV ভাইরা ছড়ায়, সেগুলি হল একধরনের শ্বেতকণিকা - টি কোষ বা EU4 কোষ৷ বলা হয়, HIV সংক্রামিত মানুষদের দেহে এই কোষ গণনা যখন ২০০-র নীচে পৌঁছোয়, তখনই সূচনা হয় এইডস রোগের৷ মনে রাখতে হবে, যে এইডস কেবল একটি রোগ নয়, কয়েকটি রোগের সমষ্টিস্বরূপ৷ তারজন্য এর নামকরণ করা হয়েছে ‘সিনড্রোম’ বা ‘রোগসমষ্টি’৷
(more…)

Posted in স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা | No Comments »

05th Aug 2008

যুক্তরাষ্ট্রে বছরে এইডস ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা অর্ধ লক্ষাধিক

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর কমপক্ষে ৫৬ হাজার মানুষ এইডস ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে। আগের হিসাব থেকে এই হার ৪০ শতাংশ বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) এক প্রতিবেদনে একথা জানিয়েছে।

সিডিসি অবশ্য জানিয়েছে, প্রকৃত রোগীর সংখ্যা হয়তো বাড়েনি। কিন্তু রোগ নির্ণয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ও নতুন পদ্ধতির ব্যবহারের ফলে আগের হিসেব থেকে নতুন এই হিসাবে রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। (more…)

Posted in স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা | No Comments »

13th Jul 2008

নাকের সৌন্দর্যবর্ধনে প্লাস্টিক সার্জারি

-অধ্যাপক ডা. সাঈদ আহমেদ সিদ্দিকী
 
কসমেটিক সার্জারি মূলত প্লাস্টিক সার্জারির অন্তর্ভুক্ত। প্লাস্টিক সার্জারি কথাটি এসেছে গ্রিক শব্দ প্লাস্টিকোস থেকে। যার অর্থ আকৃতিগত পরিবর্তন করা। চিকিৎসা বিজ্ঞানের এ শাখা শরীরের নানা রকম ত্রুটি সারিয়ে তুলতে অবদান রাখছে। জন্মগত, আঘাতজনিত, ক্যান্সার অপারেশন পরবর্তী বা পুড়ে যাওয়ার পর শরীরে যেসব ত্রুটি দেখা দেয় তার চিকিৎসা প্লাস্টিক সার্জারির অন্তর্ভুক্ত। কসমেটিক সার্জারি কথাটি এসেছে আরেকটি গ্রিক শব্দ ‘কসমেটিকস’ থেকে। যার অর্থ সৌন্দর্যবর্ধন। সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য যেসব অপারেশন করা হয় তাই কসমেটিক সার্জারি। লাইপোসাকশন (শরীরের অতিরিক্ত চর্বি বের করে ফেলা), ম্যামোপ্লাস্টি বা স্তনের সৌন্দর্য বৃদ্ধি, রাইনোপ্লাস্টি বা নাকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ইত্যাদি এর আওতাধীন।
কসমেটিক রাইনোপ্লাস্টি অপারেশনকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন­ অগমেন্টেশন রাইনোপ্লাস্টি, রিডাকশন রাইনোপ্লাস্টি এবং টিপ রাইনোপ্লাস্টি। অগমেন্টেশন রাইনোপ্লাস্টি অপারেশনের মাধ্যমে বোচা বা দেবে যাওয়া নাককে

(more…)

Posted in স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা | No Comments »

11th Jul 2008

ওরে বাবা এ যে ইয়াবা!

‘ইয়াবা’ নিয়ে অনেক আলোচনা চারদিকে। এটি আসলে কী? আমি প্রথম আলো মাদকবিরোধী আন্দোলনের একজন সক্রিয় সদস্য ও উপদেষ্টা । প্রায়ই ভাবি, আমাদের একটা বই থাকা দরকার বা একটা ওয়েবসাইট, যেখানে সব ধরনের মাদকের কুফল সম্পর্কে তথ্য থাকবে। ব্যস্ততা বা আলসেমির কারণে এটা এখনো হয়ে ওঠেনি। এ লেখাটা দিয়েই শুরু হোক। ‘ইয়াবা’ বলে দুটো জায়গা আছে পৃথিবীতে একটা লাগোসে, আরেকটা বুরকিনা ফাসোতে।

এ ড্রাগের নাম কিন্তু সেসব জায়গা থেকে আসেনি। থাইল্যান্ডে এ ড্রাগের ব্যবহার ও উৎপাদন বেশি বলে এর নাম থাই ভাষায় ‘ইয়াবা’। এর মানে ক্রেজি মেডিসিন বা পাগলা ওষুধ। অনেকে একে বলে নাজি স্পিড বা শুধু স্পিড। ১৯৭০ সালে এ ওষুধের মূল উপাদান থাইল্যান্ড এবং সারা বিশ্বে নিষিদ্ধ করা হলেও থাইল্যান্ডের ট্রাকচালকদের মধ্যে এর বহুল ব্যবহার ছিল। কারণ ইয়াবা খেলে ঘুম আসে না, রাতভর ট্রাক চালানো যায়। কিছু ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর সবাই টের পেল যে রাতভর ট্রাক চলে বটে, তবে তা পথে নয়, চলে খানাখন্দ আর ব্রিজ ভেঙে নদীতে। একসময় থাইল্যান্ডে এ ড্রাগ পেট্রলপাম্পে বিক্রি হতো।

ইয়াবার মূল উপাদান মেথ্যামফিটামিন। সঙ্গে থাকে উত্তেজক পদার্থ ক্যাফিন। ২৫ থেকে ৩৫ মিলিগ্রাম মেথ্যামফিটামিনের সঙ্গে ৪৫ থেকে ৬৫ মিলিগ্রাম ক্যাফিন মিশিয়ে তৈরি এ ট্যাবলেটের রং সাধারণত সবুজ বা লালচে কমলা হয়ে থাকে। এর নানা রকম ফ্লেভার আছে। আঙ্গুর, কমলা বা ভ্যানিলার স্বাদে একে অনেকে ক্যান্ডি বলে ভুল করবে। এ কারণে এগুলো সহজে পরিবহন ও লুকিয়ে রাখা যায়। এর আকৃতি ড্রিঙ্কিং স্ট্রর ছিদ্রের সমান। স্বাদ-গন্ধ থাকার ফলে বিক্রেতারা সহজেই তরুণ-তরুণীদের এর ব্যাপারে আকৃষ্ট করতে পারে এবং তারা একে ক্ষতিকারক মনে করে না। না করারই কথা। লজেন্স ভেবে অনেকে এটাকে সহজেই খেয়ে নেয়।

এবার জানা যাক মেথ্যামফিটামিনের ইতিহাস। ১৯১৯ সালে জাপানে সর্দি আর নাক বন্ধের ওষুধ হিসেবে এটি ব্যবহার করা হতো। একসময় মেদভঁুড়ি কমানোর জন্যও এ জিনিস ব্যবহার করা হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপান, ব্রিটেন, জার্মানি ও আমেরিকায় সেনাবাহিনীর সদস্যরা জেগে থাকতে এবং ক্লান্তি দূর করতে এটা খেত। যুদ্ধের পর এ ওষুধের বিশাল মিলিটারি স্টক ছড়িয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের হাতে। ১৯৫০ সাল পর্যন্ত আমেরিকায় এ ড্রাগটা আইনসংগতভাবে তৈরি হতো। পরে ছাত্রছাত্রী, ট্রাকচালক ও অ্যাথলেটরা এর যথেচ্ছ ব্যবহার করতে থাকলে কুফল সম্পর্কে জানা যায়। ১৯৭০ সালে বিশ্বব্যাপী এটা নিষিদ্ধ করা হয়।

এখন এ ড্রাগের সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয় মিয়ানমারে এবং এর বিরাট বাজার হলো থাইল্যান্ড ও বাংলাদেশ। আমেরিকাসহ পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোও এর ছোবলের বাইরে নেই। দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোতেও এর ব্যবহার বাড়ছে দ্রুত। পার্টি ড্রাগ হিসেবে এর ব্যবহার হয় এবং একসট্যাসি নামের অন্য একটি ড্রাগের সস্তা বিকল্প হিসেবে এটি আমেরিকায় ড্রাগ অ্যাডিক্টদের কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছে।

ইয়াবা প্রধানত খায়। অনেকে এটা পাতলা অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল ব্যবহার করে তাপ দিয়ে পুড়িয়ে ধোঁয়া সেবন করে। বেশি আসক্তরা শিরাপথেও এটা নেয়।

ইয়াবার প্রচণ্ড উত্তেজক-ক্ষমতা আছে এবং তা অনেকক্ষণ থাকে বলে কোকেনের চেয়ে অ্যাডিক্টরা এটা বেশি পছন্দ করে। ইয়াবা খেলে সাময়িক আনন্দ ও উত্তেজনা, অনিদ্রা, খিটখিটে ভাব ও আগ্রাসী প্রবণতা বা মারামারি করার ইচ্ছা, ক্ষুধা কমে যাওয়া ও বমি ভাব, ঘাম, কান-মুখ লাল হয়ে যাওয়া এবং শারীরিক সঙ্গের ইচ্ছা বেড়ে যায়। তবে এ সবই অল্প কয়েক দিনের বিষয়। বাড়ে হূৎস্পন্দনের গতি, রক্তচাপ, শ্বাস-প্রশ্বাস এবং শরীরের তাপমাত্রা। মস্তিষ্কের সূক্ষ্ম রক্তনালিগুলোর ক্ষতি হতে থাকে এবং কারও কারও এগুলো ছিঁড়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়ে যায়। কিছুদিন পর থেকে ইয়াবাসেবীর হাত-পা কাঁপে, হ্যালুসিনেশন হয়, পাগলামি ভাব দেখা দেয়, প্যারানয়া হয়। হ্যালুসিনেশন হলে রোগী উল্টোপাল্টা দেখে, গায়েবি আওয়াজ শোনে। আর প্যারানয়াতে ভুগলে রোগী ভাবে, অনেকেই তার সঙ্গে শত্রুতা করছে। তারা অনেক সময় মারামারি ও সন্ত্রাস করতে পছন্দ করে। কারও কারও শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়, খিঁচুনি হয়। খিটখিটে ভাব, অহেতুক রাগারাগি, ভাঙচুর, নার্ভাসনেসে ভুগতে থাকে ইয়াবা আসক্ত ব্যক্তিরা।

স্ম্বরনশক্তি কমে যায়, সিদ্ধান্তহীনতা শুরু হয় এবং কারও কারও সিজোফ্রেনিয়ার লক্ষণ দেখা দেয়। অনেকে পাগল হয়ে যায়। লেখাপড়ায় খারাপ হয়ে একসময় ডিপ্রেশন বা হতাশাজনিত নানা রকম অপরাধ প্রবণতা, এমনকি আত্মহত্যাও করে থাকে। হার্টের ভেতরে ইনফেকশন হয়ে বা মস্তিষ্কের রক্তনালি ছিঁড়ে অনেকে মারা যায়। অনেকে মরে রাস্তায় দুর্ঘটনায় পতিত হয়ে। কেউ কেউ টানা সাত থেকে ১০ দিন জেগে থাকে, তারপর ড্রাগ ওভার ডোজেও মরে যায়।

দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা করলে ইয়াবার আসক্তি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। তবে শারীরিক ক্ষতি পুরোপুরি সারানো সম্ভব নাও হতে পারে। তাই আসক্ত ব্যক্তিকে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে।

ইয়াবার বিস্তার রোধ করতে হলে চাই সামগ্রিক প্রতিরোধ। বন্ধ করতে হবে উৎপাদন ও পরিবহন। থাইল্যান্ড ও মিয়ানমার থেকে এর চোরাচালান আটকাতে হবে। পুল ক্লাব, লাউঞ্জ, বার, এন্টারটেইনমেন্ট ক্লাবগুলোতে কড়া নজরদারি রাখতে হবে। এটার ব্যবহার হয়ে থাকে হৈ-হুল্লোড় করা পার্টিপ্রেমী তরুণ-তরুণীদের মধ্যে বেশি। ইয়াবার কুফল সম্পর্কে তাদের সচেতন করতে হবে। পার্টি করতে হলে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে এবং কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে জামিনদার হতে হবে যে এ পার্টিতে কোনো নিষিদ্ধ বস্তুর ব্যবহার ঘটবে না। অনেক অভিভাবক ছেলেমেয়েদের হাতে অনেক টাকা তুলে দেন, এটা বন্ধ করতে হবে। তাদের টাকা দিলে কোথায় খরচ করল তার হিসাব নিতে হবে। আর ড্রাগ ব্যবসায়ী ধরা পড়লে দ্রুত তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

উৎসঃ দৈনিক প্রথম আলো, ২৪ অক্টোবর ২০০৭

Posted in স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা | No Comments »

11th Jul 2008

ধুমপানঃ ছেড়ে দিন বিষপান

মানুষের জীবন একটাই, তাই যতোটা ভালোভাবে পারা যায় সেই জীবনকে যাপন করা উচিত। সাধারণভাবে প্রতিটি মানুষই এ কথাটির সঙ্গে একমত হবেন। কিন্তু সিগারেটপ্রেমীদের ক্ষেত্রে এ কথাটি প্রযোজ্য নয়। কারণ ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য অর্থাৎ আমাদের প্রত্যেকেরই প্রিয় এ জীবনের জন্য কতোটা মারাত্মক তা জেনেও সারা পৃথিবীতে উলেস্নখযোগ্য সংখ্যক এ নেশাটির সঙ্গে জড়িত। আর ধূমপান অর্থাৎ সিগারেট তো শুধু স্মোকারদেরই ক্ষতি করছে তা তো নয়; বরং তার চারপাশে উপস্থিত নন-স্মোকারদেরও সমানভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করছে। কাজেই মারাত্মক এ বদভ্যাসটি ত্যাগ করার চেষ্টা করুন আজই।

এমন অনেকেই আছেন যারা সিগারেট ছাড়তে চান; কিন্তু পারেন না। তাদের জন্য পরামর্শ হলো প্রথমে আন্তরিক এবং দৃঢ়ভাবেই নেশাটি ছাড়ার চেষ্টা করুন।

আর চেষ্টা করুন নিচের টিপসগুলো ফলো করারঃ

* প্রথমেই সিগারেট ছাড়ার একটি তারিখ ঠিক করুন। যদি সম্ভব হয় তাহলে একজন স্মোকার বন্ধুকেও সঙ্গী হিসেবে নিন এ সৎ উদ্দেশ্যটি সফল করতে।

* খেয়াল করুন দিনের কোন সময়ে এবং কেন আপনি সিগারেট খাচ্ছেন। সে সঙ্গে প্রতিদিনকার রুটিনে অন্য নিয়মিত কাজগুলোও খেয়াল করুন।

* আপনার স্মোকিং রুটিনটাকে পাল্টে ফেলুন। সিগারেট রাখার জায়গাটিরও পরিবর্তন করুন। স্মোক করার সময় অন্য কোনো কাজ করবেন না এবং ওই সময়ে আপনার অনুভূতি সম্পর্কে ভাবুন।

* একটি নির্দিষ্ট জায়গায় সিগারেট ধরান। ভালো হয় জায়গাটি বাড়ির বাইরে হলে।

* সিগারেট ধরানোর আগে কয়েক মিনিট অপেক্ষা করুন। ওই সময়টিতে সিগারেটের বদলে অন্য কিছু (এই যেমন চুইংগাম চিবানো, চকোলেট খাওয়া ইত্যাদি) করা যায় কি না ভাবুন।

* একবারে একটির বেশি সিগারেটের প্যাকেট কিনবেন না।

* কোনো একদিন হঠাৎ করেই আপনার সব সিগারেট ফেলে দিন। হাতের কাছ থেকে সরিয়ে রাখুন অ্যাশট্রে।

* সকালের রুটিনটি পাল্টে ফেলুন। অর্থাৎ নাশতা করার আগে বা পরে দিনের প্রথম সিগারেটটি ধরানোর সময় অন্য কোনো কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকুন।

* সারা দিনের সিগারেট খাওয়ার সময়গুলোতে চুইংগাম, হার্ড ক্যান্ডি, টুথপিক চিবানোর মাধ্যমে আপনার মুখকে ব্যস্ত রাখুন।

* সিগারেটবিহীন পুরো একটি দিন কাটাতে সফল হলে নিজেই নিজেকে পুরস্কৃত করুন, হতে পারে সেটা প্রিয় একটি মুভি দেখে বা পছন্দের কোনো খাবার খেয়ে।

* দীর্ঘদিনের বদভ্যাসটি ছাড়ার সময় সাময়িক কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে যেমন- ক্ষুধা, ঘুম বেড়ে যাওয়া, সিগারেটের প্রতি আকর্ষণ আরো বেড়ে যাওয়া, মেজাজ খিটমিটে হওয়া ইত্যাদি। ঘাবড়াবেন না, এগুলো অতি সাময়িক সমস্যা। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই কেটে যাবে।

* স্মোকিং ছাড়ার সময়কার সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধানে হালকা ব্যায়াম করতে শুরু করুন। হতে পারে সেটা হাটা বা সাইকেল চালানো।

* সিগারেট ছাড়ার পজিটিভ দিক সম্পর্কে ভাবুন। যেমন ধরুন, আপনাকে নন-স্মোকার, ফ্রেশ দেখলে আপনার প্রিয়জনরা নিশ্চয়ই আনন্দিত হবে এবং তারা অন্যদের সামনে আপনাকে উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপিত করবে।

* স্মোকাররা সাধারণত টেনশনের সময় বেশি করে সিগারেট খায়। কাজেই ওই সময়গুলোতে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন, সিগারেট না খেয়ে টেনশনের কারণ এবং সমাধানের উপায় সম্পর্কে ভাবুন।

* প্রতিদিনকার রুটিন খাবারগুলো সময়মতো খান, কারণ ক্ষুধাবোধ সিগারেটের তৃষ্ণাকেও বাড়িয়ে দেয়।

* একটি মাটির ব্যাংক বা টাকা রাখার বাক্স কিনুন। সিগারেট না কিনে যে টাকাগুলো বেচে যাচ্ছে সেগুলো ওখানে সঞ্চয় করুন।

* অন্যদের কাছে আপনার সিগারেট ছাড়ার গল্প বলুন। দেখবেন সবাই আপনাকে বাহবা দিচ্ছে। স্মোকার বন্ধুদেরও নিজের কথা বলে সিগারেট ছাড়তে উৎসাহিত করুন।

* সিগারেট ছাড়ার প্রথম উদ্যোগে ব্যর্থ হলে হতাশ হবেন না। কারণ এ নেশা থেকে বের হয়ে আসতে সড়্গম হয়েছেন এমন অনেকেই কয়েকবার ব্যর্থ চেষ্টার পরই সফল হয়েছেন। কাজেই দু-একবারে সিগারেট ছাড়তে ব্যর্থ হলে ‘আমার দ্বারা হবে না’ এ রকমটি ভেবে মহৎ এ উদ্যোগটি চিরদিনের মতো শেষ করে দেবেন না।

ধূমপান বিষপান - কথাটি বিশ্বাস করুন মনে-প্রাণে। এই বিষ থেকে নিজেকে রক্ষা করুন, চারপাশের মানুষকেও মুক্তি দিন।

লেখকঃ তারানা নাশিদ
দৈনিক যায়যায়দিন, নভেম্বর ২০০৭ এ প্রকাশিত

Posted in স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা | No Comments »

11th Jul 2008

১৪ দলের মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত

অবশেষে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের সমর্থন পেলেন ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা। এই সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে সমর্থন দেয়া নিয়ে আওয়ামী লীগ গত মঙ্গলবার প্রথম প্রেসিডিয়াম বৈঠক করে। কিন্তু কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ ছাড়াই বুধবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত বৈঠক মুলতবি করা হয়। বুধবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ ওয়ার্কার্স পার্টিসহ ১৪ দলের শরিকদের সাথে একই এজেন্ডা নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক করে। এই বৈঠকেও চূড়ান্ত ঐকমত্য হয়নি।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে রাজশাহীর মেয়র পদে সমর্থন দেয়া নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে বক্তব্য আসে। পরে রাতে পূর্ব নির্ধারিত আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিল্লুর রহমানের গুলশানন্থ বাসভবনে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের শরিকদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে ১৪ দলের প্রার্থী হিসাবে ফজলে হোসেন বাদশার নাম ঘোষণা করা হয়। আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিল্লুর রহমান এ নাম ঘোষণা করেন। এদিকে আগে থেকেই আওয়ামী লীগ অপর তিন সিটি কর্পোরেশন সিলেট, খুলনা ও বরিশালের মেয়র পদে যথাক্রমে বদরউদ্দিন আহমদ কামরান, তালুকদার আব্দুল খালেক এবং শওকত হোসেন হিরনের নাম চূড়ান্ত করে।

জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে প্রেসিডিয়াম সদস্য আমির হোসেন আমু, আব্দুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, মতিয়া চৌধুরী, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, সাধারণ সম্পাদক বিমল বিশ্বাস, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ নেত্রী শিরীন আখতার, গণতন্ত্রী পার্টির নূরুল ইসলাম, সাম্যবাদী দলের দিলীপ বড়ুয়া, ন্যাপ নেতা এমএ গনি, আমেনা আহমেদ, গণ-আজাদী লীগের হাজী আব্দুস সামাদ, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টির জাকির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন । অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম অনুপস্থিত ছিলেন ।

জিল্লুর রহমান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিঃশর্ত মুক্তিসহ সকল মামলা প্রত্যাহার, ১৪ দলীয় জোটের সমন্বয়ক আব্দুল জলিলের মামলা প্রত্যাহার ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের শারীরিক চিকিৎসার জন্য বিদেশ পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান। প্রেস ব্রিফিংয়ে জিল্লুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার ৯০ দিনের জন্য ক্ষমতা গ্রহণ করলেও ২ বছর পার হতে চলেছে অথচ জাতীয় নির্বাচনের তারিখ এখনও ঘোষণা হয়নি। জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা দেয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, সাধারণ নির্বাচন বিলম্বিত করতে সরকার একের পর এক স্থানীয় নির্বাচন টেনে আনছে। জাতীয় নির্বাচনের আগে উপজেলাসহ আর কোন স্থানীয় নির্বাচন আয়োজন ১৪ দল মেনে নেবে না বলে তিনি সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জিল্লুর রহমান বলেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের সঠিক কর্মপরিকল্পনা নেই। উল্টো সরকার জনগণের সঙ্গে তামাশা করছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে তিনি রেশনিং ব্যবস্থা চালুসহ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান। ।। ইত্তেফাক রিপোর্ট ।।

Posted in বাংলাদেশ, রাজনীতি, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা | No Comments »